October 25, 2016

সিভাসুতে দেশের প্রথম “এনিম্যাল ব্লাড ব্যাংক” প্রতিষ্ঠা

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি “এনিম্যাল ব্লাড ব্যাংক” প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আজ 06/04/2016 খ্রি. দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত “স্টাব্লিশমেন্ট অব এনিম্যাল ব্লাড ব্যাংক” শীর্ষক এক কর্মশালায় সিভাসু এনিম্যাল ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র এনিম্যাল ব্লাড ব্যাংক। মানুষ মানুষের জন্য যেমন রক্ত দেয়, তেমনি প্রাণি প্রাণির জন্য রক্ত দিবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ ব্লাড ব্যাংক উদ্বোধন করে প্রাণির সংকটকালীন সময়ে রক্তদানে উৎসাহিত করার জন্য প্রাণির মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতে তামিলনাডু ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. জি. বিজয় কুমার, সিভাসু ভেটেরিনারি হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. রায়হান ফারুক, মেডিসিন এন্ড সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. বিবেক চন্দ্র সূত্রধর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভাসু এনিম্যাল ব্লাড ব্যাংক এর প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. ভজন চন্দ্র দাস।

ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, যেকোন দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে রক্তশূণ্যতা প্রতিরোধে, গুরুতর অসুস্থতা বা অপারেশনের সময়ে শক প্রতিরোধে, জীবন বিপন্নকারী কৃমিজনিত ও অন্যান্য সংক্রামক রোগে যখন রক্তের স্বাভাবিক পরিমান হ্রাস পায়, অতিরিক্ত দূর্বলতা দূরীকরণে জরুরী ভিত্তিতে প্রাণিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সিরাম অথবা লোহিত রক্তকণিকা অথবা শ্বেত রক্তকণিকা সরবরাহ করতে হয়। বর্তমানে কুকুর ও বিড়ালের পালনকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং একই সাথে আহত ও অসুস্থ প্রাণির রক্তের চাহিদাও যথেষ্ট বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এ কাদেরী টিচিং ভেটেরিনারি হাসপাতালে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র প্রাণি ব্লাড ব্যাংক “সিভাসু এনিম্যাল ব্লাড ব্যাংক” প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পোষা প্রাণির রক্তদান অন্য অসুস্থ প্রাণিকে একটি নতুন জীবন উপহার দিতে পারে। একটি কুকুর বা বিড়াল প্রতি 30 থেকে 45 দিন পর পর নিরাপদ ভাবে রক্তদান করতে পারে। তবে প্রতি 60 থেকে 90 দিন পর পর রক্তদান করা উচিত। একটি কুকুর বছরে সর্বোচ্চ 4 বার রক্তদান করতে পারে। এক ব্যাগ রক্ত সর্বোচ্চ 4টি প্রাণির জীবনরক্ষায় ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও যে কোন প্রাণির জীবন সংকটে যে কোন সময় রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। উক্ত ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাণির জন্য রক্তের যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।