August 9, 2018

বিদেশে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাচ্ছে শতভাগ শিক্ষার্থী

 বিদেশে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাচ্ছে শতভাগ শিক্ষার্থী

 

সাক্ষাৎকার

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর দায়িত্ব নেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা এই অধ্যাপক এর আগে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাসনীম হাসান

প্রথম আলো: বিশ্ববিদ্যালয় তো গবেষণা, জ্ঞানচর্চার বড় একটি ক্ষেত্র। কিন্তু বর্তমান তা শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

গৌতম বুদ্ধ দাশ: গবেষণার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা খুবই কম। গবেষণা ফান্ডকে অনেক উন্নত করতে হবে। তবে শুধু গবেষণা ফান্ড উন্নত করলে হবে না, গবেষণা যেন গবেষণার মতো হয়, সৎভাবে যাতে অর্থ ব্যয় হয়। তবে আমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় পুরোটাই গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খাটে না।

প্রথম আলো: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য কী কী সুযোগ পাচ্ছেন?

গৌতম বুদ্ধ দাশ: প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশেও ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক বলে আমি মনে করি। আমাদের শতভাগ শিক্ষার্থী বিদেশে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থীরা ভারতের তামিলনাড়ু ভেটেরিনারি এবং অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাজ ভেটেরিনারি কলেজে দ্বি-পক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এক মাসের ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া বাছাই করা শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের টাফট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছে। থাইল্যান্ডের কুনখিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময়ের লক্ষ্য একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর এক মাস থাইল্যান্ডের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্ষিশণ গ্রহণের সুযোগ পাবে।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ ও ফুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি অনুষদের সব শিক্ষার্থী প্রতিবছর মালয়েশিয়ার উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা খরচে এক মাসের ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাচ্ছে। ইতিমধ্যে মাৎস্যবিজ্ঞান ও ফুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি অনুষদের শিক্ষার্থীরা পৃথক সফরে মালয়েশিয়ায় এক মাস হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য হলো ইন্টার্নশিপ করার সময় শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার খরচ একেবারেই ফ্রি। তবে বিমানভাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যয় করতে হয়। এ ক্ষেত্রে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া ফির ১০ হাজার টাকা ওই শিক্ষার্থীর নামে জমা রাখি। ইন্টার্নশিপ করতে যাওয়ার সময় সেই টাকা তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতে দেখা যায় তার ওপর তেমন চাপই পড়ছে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া থেকেও শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ করতে আসছে।

প্রথম আলো: এখনো মেধাবী ছাত্রদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো । কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরা  কাঙিক্ষত শিক্ষা ও উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছে কি?

গৌতম বুদ্ধ দাশ: শিক্ষার্থীদের কাঙিক্ষত শিক্ষা পাওয়ার বিষয়টি বেশির ভাগই নির্ভর করে পরিবেশের ওপর। এই পরিবেশটা তৈরি করতে শিক্ষক,  শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী – সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও এখানে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। কিছু কিছু অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা থেকে উত্তরণ করাও মুখ্য।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের  যিনি উপাচার্য থাকবেন তাঁকেও সৎ, কর্মঠ এবং ভালো কাজ করতে হবে। উপাচার্যকে মনে করতে হবে- এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার। আমাকে উজাড় করে দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। তাহলে মনে হয় না কাঙিক্ষত শিক্ষা ও উপযুক্ত পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবেন।

প্রথম আলো: ষাট ও সত্তরের দশকে বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা পড়তে আসত, এখন আমাদের দেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার হিড়িক পড়ছে, এর কারণ কী ?

গৌতম বুদ্ধ দাশ : ষাট ও সত্তরের দশকে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশে শিক্ষার্থীরা আসত। তখন আমাদের তুলনায় মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডসহ অতটা উন্নত ছিল না ।কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছে। নিজেরাই এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই তারা যখন উন্নত হয়ে, তাদের দেশেই যখন ভালো শিক্ষা মিলছে- তাই তারা এখন আসছে না। তবে নেপাল থেকে কিছু শিক্ষার্থী আসছে। তবে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায়, আমরা নিই না। বিশেষ করে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চায়। কিন্তু দেখা যায়, তারা লেখাপড়া করে না, অন্য কাজেও জড়িয়ে পড়ে। তাই আমরা সার্কভুক্ত দেশগুলোকে আগ্রহ দেখাচ্ছি।

প্রথম আলো: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি হার কেমন?

গৌতম বুদ্ধ দাশ: বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকে ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য বদলে গেছে। এখন মেয়েদের সংখ্যা অর্ধেক। আবার ফলাফলেও মেয়েরা বেশ এগিয়ে। মেয়েরাই বেশি শিক্ষক হচ্ছেন। এমনকি এবার যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা বিনিময়ের সুযোগ পাওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজনেই মেয়ে। এর আগের ছিল চারজনের মধ্যে তিনজন ছাত্রী। এই তালিকা কিন্তু বাছাই করে হয় না, মেধার ভিত্তিতেই  করা হয়।

প্রথম আলো: বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেও অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

গৌতম বুদ্ধ দাশ: পড়াশোনা শেষ করে চাকরিই করতে হবে — এই বিষয়ে আমার কিছুটা দ্বিমত আছে। আমি মনে করি চাকরিই করতে হবে তা নয়। শিক্ষার্থীরা চাইলে নিজস্ব স্বকীয়তা, সৃজনশীলতায় উদ্যোক্তা হতে পারে।

প্রথম আলো: বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নেই। এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ আছে কি?

প্রথম আলো: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্র সংসদের বিষয়ে কিছু বলা নেই। তবে ভবিষ্যতে ছাত্র সংসদ হতে পারে।

 

প্রথম আলোর নিউজটি PDF দেখতে ক্লিক করুন