August 26, 2019

সিভাসুতে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রফেসর ড. অনুপম সেন “পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের নিষ্ঠুর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আর ঘটেনি

সিভাসু’তে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রফেসর ড. অনুপম সেন

“পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের নিষ্ঠুর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আর ঘটেনি” 

 

প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র রাসেল ও গর্ভবতী পুত্রবধুকেও ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা এ ধরনের নিষ্ঠুর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আর দেখি নাই।

তিনি ২৫ আগস্ট ২০১৯ রবিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েছিল তারাই এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েও বঙ্গবন্ধু আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির প্রথম নিজের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে। 

বিকাল ৪টায় সিভাসু অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশকেই হত্যা করা হয়েছিল। ইতিহাসের নির্মম ঘটনা হচ্ছে-বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পরিবর্তে পুরস্কৃত করা হলো। খুনিচক্র এখনও সক্রিয়। তারা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঘন্য হামলা চালিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের মাঝে যারা এখনও দেশের বাইরে অবস্থান করছে তাদেরকে দেশে এনে দন্ড কার্যকর করা হউক। 

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মনিরুল ইসলাম, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. বিবেক চন্দ্র সূত্রধর, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ডা. কাজী রোখসানা সুলতানা, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. সুচন্দন সিকদার, কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ আরিফ, কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মো. মহিন উদ্দিন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডা. হামীম মল্লিক, দীপ্ত কুমার পাল, নিশাত তাসনিম তানিয়া।

একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন আরও বলেন, যুদ্ধের পরে বঙ্গবন্ধু একটি বিধ্বস্ত দেশ পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন এই বাংলাদেশকে গড়ে তোলার সময় তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে রাখা যায়নি। খুনি চক্রের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, খাদ্য, যোগাযোগ, তথ্য- প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, নারী উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচক উর্ধ্বমূখী। এটি সম্ভব হয়েছে কেবল একটি স্বাধীন বাংলাদেশের কারণে। আর এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।