September 22, 2019

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-চ্যানেল আই অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড-২০১৯

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-চ্যানেল আই অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এর

পরিবর্তনের নায়ক ক্যাটাগরিতে সেরা কৃষি পদক লাভ করলেন

সিভাসু’র উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ

 

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-চ্যানেল আই অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এর ‘পরিবর্তনের নায়ক’ক্যাটাগরিতে সেরা কৃষি পদক লাভ করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ। গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক-এর হাত থেকে তিনি এ পদক গ্রহণ করেন।

কৃষি ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-চ্যানেল আই কৃষি পদক। এছাড়াও উন্নয়ন সাংবাদিক শাইখ সিরাজকে দেয়া হয়েছে আজীবন সম্মাননা। পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন সেরা পুরুষ কৃষক চাপাইনবাবগঞ্জের মতিউর রহমান, সেরা নারী কৃষক সাভারের রাজিয়া সুলতানা, সেরা কৃষি প্রতিষ্ঠান (কৃষি গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি) বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, সেরা কৃষি প্রতিষ্ঠান (কৃষি সহায়তা ও বাস্তবায়ন) গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা, সেরা কৃষি রপ্তানিকারক লালতীর এবং জুরি স্পেশাল প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেড। পদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে পাঁচ লক্ষ টাকার চেক ও একটি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বিগত ৫ বছরে এটিকে অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে উন্নীতকরণের ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। বর্তমান বিশ্ব বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও কমপিটেন্ট গ্র্যাজুয়েট তৈরি’র লক্ষ্যে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে তিনি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সিভাসু শিক্ষার্থীদের বিদেশে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। একই সাথে ঐসকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সিভাসুতে ইন্টার্নশিপ করতে আসছে। এছাড়াও তিনি দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকায় অত্যাধুনিক পেট হসপিটাল ও রিসার্চ সেন্টার স্থাপন করেন। সমুদ্রসীমা বিজয়ের ফলে সৃষ্ট সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি সরকারি সহযোগিতায় কক্সবাজারের দরিয়ানগরে স্থাপন করেছেন মেরিন রিসার্চ সেন্টার। বর্তমানে মালয়েশিয়ান কারিগরি সহযোগিতায় উক্ত রিসার্চ সেন্টারে ভেটকি মাছের পোনা উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাপ্তাই লেকে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি সমৃদ্ধ রিসার্চ ভেসেল। উক্ত ভেসেল লেকের মৎস্য ভান্ডার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা কার্য পরিচালনা করবে। এছাড়াও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০ একর জমির উপর স্থাপন করা হয়েছে রিসার্চ এন্ড ফার্ম বেইজড ক্যাম্পাস। এ ক্যাম্পাসে মাঠ পর্যায়ের গবেষণার সকল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার কাজ চলছে।

উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকালীন তিনি গুণগত শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান করেন। সম্প্রতি তাঁর নির্দেশনায় পরিচালিত এক গবেষণায় সিভাসুর বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উম্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে এই গবেষণার স্বীকৃতি পাওয়া গেছে।

সিভাসু’র উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের একক প্রচেষ্টায় দেশের শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এর ফলে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে দক্ষ ও কমপিটেন্ট গ্র্যাজুয়েট হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন; যারা কর্মক্ষেত্রে দেশের কৃষি ও অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সাধনে দক্ষতার সাথে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জুরি বোর্ড এ পদকের জন্য তাঁকে মনোনীত করেন।

সম্মানজনক সেরা কৃষি পদক লাভ করায় উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।