October 29, 2018

রাজধানীতে অত্যাধুনিক পোষাপ্রাণি হাসপাতালের যাত্রা শুরু

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে

রাজধানীতে অত্যাধুনিক পোষাপ্রাণি হাসপাতালের যাত্রা শুরু

 

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)-এর উদ্যোগে ২৮ অক্টোবর ২০১৮ইং থেকে রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলে যাত্রা শুরু হলো দেশের প্রথম পোষাপ্রাণি হাসপাতালের। ইন্টার্ন ও স্নাতকোত্তর ভেটেরিনারি ডাক্তারদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের এই হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে।

২৮ অক্টোবর ২০১৮ই রবিবার বিকাল ৩টায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে “টিচিং এন্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার”নামের উক্ত হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভাসু’র উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূখ্য কাজ হলো গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। গবেষণায় প্রাপ্ত জ্ঞানের আলোয় নতুন প্রজন্ম আলোকিত হবে। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতার প্রেক্ষিতে চিন্তা করলে দেখা যায়, শুধু জ্ঞানার্জন করলেই হবে না। স্ব স্ব বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দক্ষতা থাকলে কর্মসংস্থানের অভাব হবে না। দেশের চাহিদা পূরণ করে দক্ষ জনবলকে বিদেশেও পাঠানো যাবে। ভেটেরিনারি পেশাজীবী বিদেশে পাঠানো গেলে দেশের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল হবে; তেমনি বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা যাবে। 

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সিভাসু অন্যতম বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ঢাকা শহরে বিশেষ করে গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সৌখিন মানুষেরা পোষাপ্রাণি লালন-পালন করে থাকেন। এই হাসপাতালে তাঁরা পোষাপ্রাণির উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন। একই সাথে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে ইন্টার্ন ডাক্তাররাও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ পাবেন। এটি নি:সন্দেহে ভেটেরিনারি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”

চট্টগ্রামে অবস্থিত ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ঢাকায় পেট হসপিটাল ও রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেগা-সিটিতে চট্টগ্রামের চেয়ে পোষাপ্রাণির আধিক্য সবচেয়ে বেশি এবং এখানে অনেক বেশি এক্সপোজার পাওয়া যাবে- যেটি চট্টগ্রামে কখনোই সম্ভব না। তাছাড়া ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এখানে অনেক বিদেশীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ বসবাস করেন যাদের অনেকেরই পোষাপ্রাণি রয়েছে। কিন্তু পোষাপ্রাণির উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য এখানে সরকারি কোন আধুনিক প্রতিষ্ঠান নেই। তাই পোষাপ্রাণির উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে রাজধানীতে পেট এনিম্যাল হসপিটালের গুরুত্ব অপরিসীম।

ইউজিসি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, জনগণের জন্য সরকারকে উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ যাতে তার সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারে, সেজন্য উপযুক্ত শিক্ষা, দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। সিভাসু’র উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত “টিচিং এন্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার”দক্ষ জনশক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইউজিসি’র চেয়ারম্যান।

প্রফেসর আবদুল মান্নান আরও বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সিভাসু একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিগত চার বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈর্ষণীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন, কক্সবাজারে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং সর্বশেষ ঢাকা শহরে পেট এনিম্যাল হসপিটাল স্থাপনের মধ্য দিয়ে সিভাসু একটি নতুন মাইলফলকে এসে দাঁড়িয়েছে।

সিভাসু’র উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, বর্তমান অবকাঠামোর পাশাপাশি এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে এবং উক্ত ভবনে পোষাপ্রাণির চিকিৎসাসেবা প্রদানের সব ধরনের অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা; যেমন- মেডিসিন ইউনিট, সার্জারি ইউনিট, গাইনি এন্ড অবস্টেট্রিক্স ইউনিট, অর্থোপেডিক্স ইউনিট, রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং ইউনিট এবং ভ্যাকসিনেশন ইউনিট থাকবে। ইতোমধ্যে এখানে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, মাইক্রোস্কোপসহ আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সিভাসু’র ইন্টার্ন ডাক্তার, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।