Students

  Teachers

  Staffs

 

চট্টগ্রামে ৯৩ শতাংশ রোগী ডেলটায় সংক্রমিত





মূল প্রতিবেদন সূত্র : প্রথম আলো
প্রণব কুমার বল চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২১

চট্টগ্রামে করোনায় সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে ৯৩ শতাংশের নমুনায় ডেলটা ধরন পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

‘কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণায় ১ থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে চট্টগ্রামে করোনায় সংক্রমিত ৩০ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের বয়স ২১ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী। রোগীদের মধ্যে অর্ধেক গ্রামের, বাকি অর্ধেক শহরের বাসিন্দা।

গবেষণায় দেখা যায়, চট্টগ্রামে শহরের পাশাপাশি গ্রামেও সমান দাপটে করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণ চলছে। গবেষক ও চিকিৎসকেরা বলছেন, করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। পাশাপাশি মৃত্যুর হারও বাড়ছে। মানুষের মধ্যে করোনার স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা সংক্রমণ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

সিভাসু উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গবেষণার জন্য সংগৃহীত ৩০টি নমুনার মধ্যে ২৮টি ডেলটা ধরন হিসেবে শনাক্ত হয়, যা মোট নমুনার ৯৩ শতাংশ। বাকি দুটি নমুনার মধ্যে একটি আলফা (যুক্তরাজ্য) ধরন। অপরটি চীনের উহানে শনাক্ত ধরন।

গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, ডেলটা অতি উচ্চ সংক্রমণশীল ধরন। এই ধরনের উৎস ভারত। বাংলাদেশে প্রথমে সীমান্তবর্তী জেলায় ডেলটার সংক্রমণ হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। এখন দেশে ধরনটির দাপট চলছে।

গবেষণায় সহযোগিতায় ছিল পোলট্রি রিসার্চ ও ট্রেনিং সেন্টার। মুখ্য গবেষক ছিলেন অধ্যাপক পরিতোষ কুমার বিশ্বাস। এ ছাড়া সিভাসুর অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী, চিকিৎসক ইফতখোর আহমেদ, ত্রিদিব দাশ, প্রনেশ দত্ত, মো. সিরাজুল ইসলাম ও তানভীর আহমদ নিজামী গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

গবেষকেরা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষাগারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সেলিম খান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোরশেদ হাসান সরকার গবেষণায় জিনোম সিকোয়েন্সে সহযোগিতা করেন।

গবেষকেরা জানান, ডেলটায় সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে তরুণ, যুবক, প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ—সব বয়সীরাই আছেন। ডেলটায় সংক্রমিত সবাইকে হাসপাতালে যেতে হয়নি। ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাকিরা বাসায় চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৯ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব।

গবেষক অধ্যাপক পরিতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, সব বয়সীদের মধ্যেই ডেলটা ধরন পাওয়া গেছে। আগে পাওয়া করোনার ধরনগুলো তুলনামূলক কম সংক্রামক ছিল। কিন্তু ডেলটা দ্রুত ছড়াচ্ছে। করোনার বিধিনিষেধ না মেনে বাইরে ঘোরাঘুরি করা, উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংক্রমণ বেশি ঘটছে।

গবেষকেরা জানান, সীমান্তবর্তী জেলার পর ঢাকা অঞ্চলের নমুনায় ডেলটা ধরন দেখা যায়। পরে তা সারা দেশে ছড়ায়। জুলাই মাস থেকে মূলত ডেলটা ধরন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো চট্টগ্রামে এখনো ডেলটা ধরনের দাপট চলছে। প্রতিনিয়ত সংক্রমণ বাড়ছে।

এদিকে, দেশে বর্তমানে করোনায় সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের শরীরে ডেলটা ধরন পাওয়া গেছে বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউর উপাচার্য ও জিনোম সিকোয়েন্সিং রিসার্চ প্রজেক্টের সুপারভাইজার শারফুদ্দিন আহমেদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের ৮ বিভাগ থেকে করোনার ৩০০ নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিং করে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের কোভিড-১৯ বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র জেনারেল হাসপাতালের করোনা বিভাগের মুখপাত্র ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. আবদুর রব বলেন, ‘ডেলটা ধরনের কারণে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। এ ছাড়া রোগীদের মৃত্যু বৃদ্ধির জন্যও এই ধরন দায়ী।’

চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনায় এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে জুলাই মাসে মারা গেছেন ২৬১ জন, যা অতীতের যেকোনো মাসের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। একই মাসে চট্টগ্রামে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছ সাড়ে ২৩ হাজারের বেশি। এই সংখ্যা আগের যেকোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ৬ দিনে চট্টগ্রামে করোনায় মারা গেছেন ৭৪ জন। শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৭০১ জন। আগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলফা ধরন (যুক্তরাজ্য) ও বিটা ধরনের (দক্ষিণ আফ্রিকা) প্রাধান্য ছিল। চট্টগ্রামে আলফা ধরনের উপস্থিতি এখনো থাকলেও তার হার খুবই কম।