Students

  Teachers

  Staffs

 

মাননীয় প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক "সিভাসু গবেষণা তরী র" শুভ উদ্বোধন





চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উদ্যোগে রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে নির্মিত বিশেষায়িত গবেষণাতরী ‘সিভাসু রিসার্চ ভেসেল’ এর কার্যক্রম ২৮ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় । সকাল ১০টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই গবেষণাতরী উদ্বোধন করা হয় ।

আর এই গবেষণাতরীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে উন্মোচিত হবে নতুন এক মাইলফলক। কারণ, দেশে এই ধরনের উদ্যোগ এটিই প্রথম। এটি সিভাসু’র শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গবেষণাতরীতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ ৩টি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

বিশেষায়িত গবেষণাতরীর মাধ্যমে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে মালয়েশিয়া সরকার তাদের কৃত্রিম হ্রদ ‘লেক কেনিয়র’-এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। আর সেই তরীর আদলে সিভাসু’র এই গবেষণাতরীটি নির্মাণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে কাপ্তাই লেকের অনেক মৎস্যপ্রজাতি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং কিছু প্রজাতি বিলুপ্তির আশংকায় আছে। বিলুপ্ত মৎস্যপ্রজাতির মধ্যে রয়েছে-মহাশোল, পিপলা শোল, বাঘাআইড়, নান্দিনা ইত্যাদি। বিলুপ্তির আশংকার তালিকায় আছে- সরপুঁটি, পাবদা, গুলসা, বাচুয়া ও ভঙ্গন বাটা প্রভৃতিসহ ১৮টি প্রজাতি। কাপ্তাই লেক এক সময় কার্প জাতীয় মাছের প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। ১৯৬৫-৬৬ সালে এই হ্রদে প্রাপ্ত মাছের মধ্যে ৮১ শতাংশই ছিল কার্প জাতীয়। অথচ বর্তমানে ৯০ শতাংশই হলো চাপিলা ও কাচকি।

এখনই যদি কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া না যায়- তাহলে লেকের মৎস্য ও অন্যান্য জলজপ্রাণী ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। তাই কাপ্তাই লেকের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন ফলপ্রসূ গবেষণা। আর এ তাগিদ থেকেই সিভাসু কর্তৃপক্ষ উক্ত গবেষণাতরী নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।