আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এলইএপি ২০২৫ ইয়াং রিসার্চার অব দ্য ইয়ার’ অর্জন করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির।
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কারকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। প্রতিবছর লন্ডন স্কুল অব ডিজিটাল বিজনেস (এলএসডিবি) আন্তর্জাতিক এ শিক্ষা পুরস্কারের আয়োজন করে থাকে এবং বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য শিক্ষাবিদ ও প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা ও গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি পুরস্কার নয়; বরং এক বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের নেতারা একত্রিত হন। এ কারণে একে অনেকেই শিক্ষা ও গবেষণার “অস্কার” বলে থাকেন।
এ বছর এলইএপি ২০২৫–এ শিক্ষা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭০টিরও বেশি দেশ, ৪০০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, ২৬০ জন শীর্ষ শিক্ষানেতা এবং ৫০০ জনের বেশি অধ্যাপক ও গবেষক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ভার্চুয়াল সেশনে ড. হুমায়ুন কবিরকে ‘ইয়াং রিসার্চার অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার মুহূর্তে অনলাইনে উপস্থিত থেকে তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষানেতাদের করতালিতে গর্বের সঙ্গে শুনেছেন বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হতে। আগামী নভেম্বর মাসে দুবাইয়ে বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
অধ্যাপক হুমায়ুন কবির দীর্ঘ ২৪ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর উদ্ভাবনী গবেষণায় প্রোবায়োটিক দই, কম চর্বিযুক্ত দই ও হোয়ে-ভিত্তিক পানীয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই “’মিল্ক অ্যান্ড ডেইরি ফুডস: নিউট্রিশন, প্রসেসিং অ্যান্ড হেলদি এজিং” বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলেছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফারেন্স বই হিসেবে পড়ানো হচ্ছে। স্থূলতা প্রতিরোধ ও প্রোবায়োটিক নিয়ে তাঁর গবেষণা নিউট্রিয়েন্টস ও ফ্রন্টিয়ার্স ইন ইমিউনোলজি’র মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ২০১৯-২০২০ সালে সিভাসু’র সেরা গবেষক নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় পরামর্শক, আন্তর্জাতিক জার্নালের সম্পাদক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তা হিসেবেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকগুলোতেও নিয়মিত লিখছেন শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক প্রবন্ধ।
তাঁর এই অর্জন প্রসঙ্গে সিভাসু’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘এ অর্জন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বাড়িয়ে দেবে।’
নিজের প্রতিক্রিয়ায় ড. হুমায়ুন কবির বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। এ অর্জন কেবল আমার ব্যক্তিগত নয়; এটি বাংলাদেশের পাশাপাশি সিভাসু পরিবারের সবার সম্মিলিত সাফল্য। শিক্ষা ও গবেষণাকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোই আমার মূল লক্ষ্য। আমি এ পুরস্কারটি আগামী প্রজন্মের তরুণ গবেষকদের প্রতি উৎসর্গ করছি, যারা স্বপ্ন দেখেন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার। আসুন, আমরা সবাই প্রশ্ন করতে শিখি, সত্য অনুসন্ধান করি এবং গবেষণার মাধ্যমে মানবতার সেবা করি। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করি, যেন আমার কাজ শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।’