Students

  Teachers

  Staffs

 

সিভাসুতে এলে বাঁচে প্রাণ





মূল প্রতিবেদন সূত্র : আজকের পত্রিকা
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২১

নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় গত শনিবার সকালে একটি ১৭ কেজি ওজনের বন্য বানর বিদ্যুতের তারে শক খায়। আহত অবস্থায় বানরটি সড়কে পড়ে আছে এই সংবাদ পৌঁছায় প্রাণীদের নিয়ে কাজ করা নামিলা। বানরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে তিনি আসেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু)। সঙ্গে সঙ্গে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ড. ভজন চন্দ্র দাস চিকিৎসা শুরু করেন। এ যাত্রায় প্রাণে রক্ষা পায় বানরটি।

একই দিন দুটি পারসিয়ান বিড়াল নিয়ে আসেন দুই শিশু। কয়েক দিন ধরে প্রিয় বিড়াল দুটি অসুস্থ ছিল। যে কারণে তাঁদের রাতে ঘুম হয়নি তাদের। সকাল সকাল সিভাসুতে নিয়ে এসে চিকিৎসা করায় তারা। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা ওষুধ দেন। চিকিৎসকদের আশ্বাস পেয়ে শিশু দুটির চোখে রাজ্যের আনন্দ। প্রিয় বিড়াল নিয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা।

যাওয়ার পথে কথা হয় ওই দুই শিশুর সঙ্গে। তারা জানায়, এর আগেও বিড়াল দুটি অসুস্থ হয়েছিল। সিভাসুতে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকদের ওষুধে সেরে যায়। কিন্তু এবার একটু বেশি অসুস্থ হওয়ায় চিন্তায় পড়ে যায় তারা। তাই ছুটে এসেছে আবার।

শুধু চট্টগ্রামের প্রাণীগুলোই নয়, সারা দেশ থেকে বিভিন্ন জাতের প্রাণী নিয়ে সিভাসুতে আসছেন মানুষজন। এই কয়েক দিন আগের কথা, সাতক্ষীরা থেকে একটি ককাটেল পাখি নিয়ে আসেন নুরুল হাসান। সুন্দর এই পাখিটি একটি টিউব খেয়ে ফেলছিল। ফলে পাখিটিকে বাঁচানো নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান নুরুল হাসান। খোঁজ-খবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সিভাসুতে নিয়ে গেলে চিকিৎসা মিলবে। সেই সূত্রে আসেন সিভাসুতে। চিকিৎসক ড. ভজন চন্দ্র দাস বলেন, ‘শুরুতে পাখিটির পেট থেকে টিউবটি অপসারণ করেছি। তারপর ওষুধ দিই। কয়েক দিন পরই পাখিটি সুস্থ হয়ে যায়।’
যশোর, ঢাকা কিংবা কক্সবাজার বিভিন্ন জায়গা থেকে পোষা বিড়াল, পাখি, কুকুর, বানরসহ নানান প্রাণী অসুস্থ কিংবা আহত হলেই সিভাসুতে চিকিৎসার জন্য আসছেন মানুষজন। নামমাত্র মূল্যে নিবন্ধন করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এসব প্রাণীর। তবে সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নিচ্ছে গবাদিপশু।

ড. ভজন চন্দ্র দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘করোনার আগে মাসে ২ হাজারের বেশি প্রাণীকে সিভাসু থেকে চিকিৎসা দেওয়া হতো। অর্থাৎ দিনে গড়ে ৭০টি প্রাণীকে আমরা চিকিৎসা দিতাম। করোনার পর থেকে একটু কম হলেও এখন ৪০-৫০টি প্রাণীকে চিকিৎসা দিচ্ছি।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘প্রাণীর সব রকমের চিকিৎসা পদ্ধতি এখানে রয়েছে। রক্ত পরীক্ষা থেকে শুরু করে বডি স্ক্যানও করা হয়। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়ায় প্রাণীরাও বেঁচে যায়।’